গৃহপালিত পশু-পাখীরও হক আছে
একদিন হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল বেলা কোথাও যাচ্ছিলেন। তখন পথিমধ্যে তিনি একটি উট বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন। বিকালের দিকে ফেরার পথেও তিনি উটটিকে সেই জায়গাতেই ঠায় বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেলেন। উটের মালিককে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করলেন, সারা দিন একে কোন কিছু খেতে দাওনি? উটের মালিক বলল, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাকে শাসনের স্বরে বললেন, দেখ, হাশরের ময়দানে যখন এই অসহায় জন্তুটি আল্লাহ তায়ালার সামনে তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবে, তখন তুমি কি জবাব দিবে? রাসূলুল্লাহর সতর্কবাণী হযরত আলী রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন বলছিলেন, লোকসকল! কৃতদাসদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। ওদের তাই খেতে দিবে, পরতে দিবে, যা তোমরা নিজেরা খাও, পর। সাবধান! তাদেরকে এমন কোন কাজে নিয়োজিত করো না, যা তাদের সাধ্যের বাইরে হয়। তারা তোমাদের মতই মানুষ। সাবধান! যারা গোলামদের সাথে বাড়াবাড়ি করবে, আমি সেই মজলুমদের পক্ষ হয়ে বিচারপ্রার্থী হবো, আর স্বয়ং আল্লাহ হবেন সেদিন বিচারের মালিক। তিন শ্রেণীর লোকের জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, তিন শ্রেণীর লোকের জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। ১. যে ব্যক্তি স্বীয় কৃতদাসীকে আদর-যত্নে লালন পালন করতঃ উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেয় এবং ভাল পাত্র দেখে বিয়ে দিয়ে দেয়। ২. আহলে-কিতাবদের কেউ যখন মুসলমান হয়ে যায়। ৩. যে ব্যক্তি দুনিয়ার কর্তৃপক্ষের আনুগত্যের পাশাপাশি প্রকৃত মালিক মাওলা অর্থাৎ মহান আল্লাহর আনুগত্যের কথা ভুলে না যায়। ইয়াতীমকে ভালোবাসতে হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, কেউ যদি স্নেহ পরবশ হয়ে কোন এয়াতীমের মাথায় হাত রাখে, তবে তার হাতের নীচে যতগুলি কেশ আসবে, সেগুলির প্রতিটির বদলায় আল্লাহ পাক তাকে একটি করে নেকি দান করবেন। একটি করে গোনাহ মাফ করবেন এবং একটি করে দরজা উন্নত করবেন। হযরত রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, কেউ যদি কোন এয়াতীমকে নিজের খাওয়া দাওয়ার সাথে শরীক করে লালন-পালন করে, তবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজেব হয়ে যাবে। তবে সে ব্যক্তি যদি শেরক এর ন্যায় মহাপাপে জড়িত হয়ে নিজের উপর জাহান্নাম ওয়াজেব করে নেয়, তবে তা অন্য কথা। ঁ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি কারও দৃষ্টিশক্তি চলে যায় এবং আল্লাহর দরবারে সবর করে; অনুরূপ যদি কারো তিনটি কন্যা সন্তান থাকে এবং তাদেরকে উত্তমরূপে লালন-পালন করে সুপাত্রে পাত্রস্থ করে এদের মধ্যে কারো যদি মৃতু্য হয়ে যায় এবং সে সবর করে তবে এর বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করবেন। জনৈক বেদুঈন জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি কারো দু'টি মাত্র কন্যা সন্তান থাকে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তবুও সে জান্নাত পাবে। ঁ জনৈক সাহাবী আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মনটা খুব কঠিন। কি আমল করলে তা একটু নরম হবে? বললেন, ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলাবে এবং ওদের খানা খাওয়াবে। ঁ জনৈক দার্শনিক বলেছেন, যে ঘরে ইয়াতীম লালিত-পালিত হয়, সে ঘরের লোকদের জন্য যেমন অত্যন্ত সৌভাগ্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে, তেমনি ইয়াতীমের মনে কষ্ট দিয়ে আল্লাহর গজবে পতিত হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ঁ জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার বাড়ীতে একটি ইয়াতীম লালিত-পালিত হচ্ছে, কি কি কারণে আমি তাকে প্রহার করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দিলেন, নিজের সন্তানকে যে সব কারণে প্রহার করা যায়, শুধুমাত্র সেরূপ কোন কারণ ঘটলে মৃদু প্রহার করার অনুমতি রয়েছে। ঁ হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি উপদেশ উদ্ধৃত করে বলেন, কেউ যদি উত্তম কোন খাদ্য বস্তু ক্রয় করে এনে নিজের শিশু সন্তানদের খেতে দেয়, তবে সে উত্তম সদকার সওয়াব পাবে। তবে প্রথমে মেয়ে শিশুদের হাতে সেগুলি তুলে দেওয়া উচিত। মেয়ে শিশুদের প্রতি বেশি মমতা প্রদর্শনকারী ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে রোদনকারীর সমতুল্য বিবেচিত হয়। যারা মেয়ে শিশুদেরকে বেশি তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করবে শেষ বিচারের কঠিন দিনে স্বয়ং আল্লাহপাক তাদেরকে তুষ্ট রাখবেন। ইন্নালিল্লাহ পড়ার বরকত উম্মত-জননী হযরত উম্মে সালমা রা. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, কেউ যদি বিপদ মুহূর্তে ইন্নালিল্লাহ পড়ে সবর করে এবং আল্লাহর কাছে এই ক্ষতি পূরণের জন্য দোয়া করে তবে আল্লাহপাক সেই ক্ষতি পূরণ করে দেন। আমার স্বামী আবু সালামার ইন্তেকাল হওয়ার পর আমি দোয়া করতে থাকি, কিন্তু মনে মনে এরূপ একটি দ্বিধাও ছিল যে, আবু সালামার চাইতে উত্তম স্বামী আর কোথায় পাবো? কিন্তু আল্লাহ পাক আমাকে এমন এক স্বামী দিলেন, যে বিষয়ে আমার পক্ষে অনুমান করাও সম্ভব ছিল না। অর্থাৎ আল্লাহর নবীকে আমি স্বামী রূপে পেয়ে গেলাম। দুর্ব্যবহার কারীরা জান্নাতে যাবে না হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. এরশাদ করেছেন, কর্মচারীদের সাথে যে ব্যক্তি দুর্ব্যবহার করে, সে জান্নাতে যাবে না। ওদের সাথে নিজের সন্তানের ন্যায় ব্যবহার করো। নিজেরা যা খাও তাদেরকে সেই মানের খাবার দিবে। যে গোলাম বা কর্মচারী নামায পড়ে সে তোমাদের ভাই। একজন জিজ্ঞেস করলো, অধীনস্থ কর্মচারীদেরকে দৈনিক কত বার ক্ষমা করতে হবে? বললেন, অন্তত সত্তর বার। দোয়ার সাথে দরূদের সম্পর্ক হযরত ওমর রা. বলেছেন, আমাকে বলা হয়েছে যে, দরূদ ব্যতীত দোয়া করা হলে সেই দোয়া আসমান ও জমিনের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পেঁৗছে না।
বাকি অংশ মুদ্রিত সংখ্যায় পড়ূন |